২৯ মে। আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। এবারে দিবসটির মূল প্রতিপদ্য হলো- 'স্থায়ী শান্তির পথ :শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য তারুণ্যের শক্তি ব্যবহার।' দিবসটি এলেই বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অহংকারের দৃশ্যপট সামনে আসে। তিন দশকের বেশি সময় ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। বর্তমানে বিশ্বের আটটি মিশনে সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর ছয় হাজার ৭৪২ সদস্য শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ বাংলাদেশ।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর শান্তিরক্ষীদের অসামান্য অবদানকে এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া বাণী দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৮৮ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে অদ্যাবধি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা সর্বোচ্চ পেশাদারি মনোভাব, আনুগত্য ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। তাদের অনন্য অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। আমাদের শান্তিরক্ষীরা শান্তিরক্ষা মিশনে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবদান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারির মধ্যেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তি স্থাপনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে ওই সব দেশের জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। জাতিসংঘ মিশন এবং বহুজাতিক বাহিনীতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অনন্য অবদান বিশ্বের দরবারে দেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব তার বাণীতে বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তরুণ শান্তিরক্ষীরা। বিশেষ করে তরুণ-নারী শান্তিরক্ষীরা, যারা গভীরে প্রোথিত প্রথাবদ্ধ লিঙ্গবৈষম্য উন্মোচন করতে অবদান রাখছে এবং অপ্রচলিত ধারায় নতুন সুযোগ তৈরিতে নারী ও তরুণীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
১৯৮৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। ওই বছর ইরান-ইরাক সামরিক পর্যবেক্ষক দলে ১৫ জন সামরিক পর্যবেক্ষক পাঠায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরপর যতই দিন পার হয়েছে, ততই আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় দেশের সাফল্যে নতুন নতুন পালক যুক্ত হয়েছে। নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী শান্তিরক্ষী মিশনে যোগ দেয় ১৯৯৩ সালে। আর নামিবিয়া মিশনের মধ্য দিয়ে ১৯৮৯ সালে শান্তিরক্ষী মিশনে যাত্রা শুরু করে পুলিশ।
তিন দশকের বেশি সময় ধরে এই পথচলায় ৪০টি দেশে ৫৫টি মিশনে এক লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৯ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী সদস্য অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে আটটি মিশনে ছয় হাজার ৭৪২ জন নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে দুই হাজার ৩৪ জন নারী শান্তিরক্ষী সাফল্যের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে ২৮৪ বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত আছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ১৫৯ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন।
বর্তমানে দক্ষিণ সুদানে এক হাজার ৬৭১, ডিআর কঙ্গোতে এক হাজার ৯১৩, লেবাননে ১১৮, পশ্চিম সাহারায় ২৬, মালিতে এক হাজার ৬৩৫, কারে এক হাজার ৩৫৬, জাতিসংঘে ৯, নেদারল্যান্ডসে এক, সুদানে ১২ ও ইয়েমেনে একজন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিয়োজিত আছেন।
পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, অদ্যাবধি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ২১টি শান্তিরক্ষা মিশন এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ পুলিশের ২০ হাজার ৩১৬ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে জাতিসংঘ সদর দপ্তর এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, মালি, দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশের ৪৯১ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশের ১৫০ নারী সদস্য কর্মরত আছেন।
কর্মসূচি:
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি
হাতে নিয়েছে। সকালে শান্তিরক্ষীদের স্মরণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু
হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে শান্তিরক্ষী র্যালি-২০২১ উদ্বোধন করবেন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে
আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদ শান্তিরক্ষীদের নিকটাত্মীয় এবং আহত শান্তিরক্ষীদের
জন্য সংবর্ধনা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর বিশেষ উপস্থাপনার
আয়োজন করা হয়েছে। সেনাকুঞ্জে শহীদ শান্তিরক্ষীদের নিকটাত্মীয় এবং আহত
শান্তিরক্ষীদের জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভিটিসির মাধ্যমে প্রধান অতিথি
হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।- সূত্রে-সমকাল।


0 Comments