সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

আপনার শিশু.... ঘুমের মধ্যে রোগ...

 


 নাক ডাকলে ঘুমের ব্যঘাত, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসরোধ, শারীরিক বৃদ্ধিও ব্যাহত হতে পারে। জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ  

-ডা: স্বপন রায়।
        
         প্রায়শ না হলেও মাঝে মাঝেই মায়েরা এসে শিশু চিকিৎসকদের কাছে সন্তানের ঘুমন্ত অবস্থায় নাক ডাকার সমস্যার কথা বলেন। অনেক সময়ই এতে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু ঘুমের মধ্যে এই নাক ডাকার ব্যাপারটা মোটেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়, সবার না হলেও কিছু শিশুর কিন্তু নাক ডাকার জন্য ঘুমের ব্যাঘাত হয়। দেখা গেছে, সমস্ত শিশুর ঘুমের মধ্যে ১০ শতাংশ শিশুর ঘুমের মধ্যে নাক ডাকে। এদের বেশিভাগেরই ঘুমের ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটে না। অনেকের আবার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমন্ত অবস্থায় নাক ডাকা কমে যায়। তাদের নিয়ে দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যেসব শিশুর নাক ডাকে, তাদের মধ্যে ৪০ শতাংশের নাক ডাকলে ঘুম ভেঙে যায়। কারও কারও শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, এমনকি কিছু সংখ্যক শিশুর শ্বাসরোধ বা ক্ষণিক শ্বারোধ হতে পারে।
চিকিৎসা পরিভাষায় এই অসুখের পোশাকি নাম ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া সিনড্রোম’ (osas)। এই রোগের কার্যকারণ সঠিকভাবে জানা না গেলেও মূলত অ্যাডিনয়েড এবং টনসিলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকেই দায়ী করা হয়। এছাড়া সেরিব্রাল পলসি, ডাউন সিনড্রোম, প্রভৃতি বিভিন্ন জটিল অসুখে নাক ও মুখের বিকৃত হাড়ের গঠনশৈলী এর আর এক কারণ বলে ধরা হয়ে থাকে। সাধারণত ২ থেকে ৬ বছরের শিশুর মধ্যেই এই রোগের প্রবণতা দেখা যায়। ছেলে বা মেয়ে উভয়েই সমানভাবে আক্রান্ত হতে পারে। রোগাক্রান্ত বেশিরভাগ এ রকম শিশুর ওজন কমে যায়। ওজন কম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। বেশিরভাগ শিশুরই মানসিক বিকাশও বি্ঘ্নিত হয়। অনেকেরই অ্যাডিনয়েড এবং টনসিল গ্ল্যান্ড বড় হয়ে যায়। এই রোগাক্রান্ত শিশুদের কিন্তু বড়রোগীদের মতো দিনের বেলায় বেশি ঘুমঘুম ভাব থাকে না । রাতেও অনেকের ঘুম নাও ভাঙতে পারে, ভাঙলেও ঘুমের গঠন অবিকৃত থাকে।
     যে সমস্ত শিশুর ঘুমের মধ্যে নাক ডাকে, তাদের মায়েরা অভিযোগ করে থাকেন যে তাঁর বাচ্চা মুখ হাঁ করে শ্বাস নেয়, নাক বন্ধ হয়ে যায় সব সময়, এমনকি নাকি সুরে কথা বলে। নাকের ড্রপ দিতে দিতে তাঁরা নাকাল হয়ে যান। বাচ্চাদের স্কুলেও খুব অসুবিধে হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্লাসে উত্তর দিতে ওদের খুব কষ্ট হয়, ফলে রেজাল্ট খারাপ হতে থাকে। রাতেও এই সব শিশুর অতিরিক্ত ঘাম, জোরে জোরে শ্বাস নেওয়া, ঘমের ভিতর ছটফট করা, অদ্ভুতভাবে ঘুমাতে দেখা যায়। আবার কেউ কেউ বেশি বয়স পর্যন্ত ঘুমের ঘোরে বিছানা ভিজিয়ে ফেলে। দেখা গেছে অ্যাডিনয়েড টনসিলের অপারেশনের পরে অনেক শিশুই এই বিছানা ভিজিয়ে ফেলা থেকে মুক্তি পায়। যে সব শিশুর এই রোগ (osas) থাকে তাদের অনেকেরই আরও নানা উপসর্গ এবং জটিলতা দেখা যায়। শুনলে অবাক হতে হয় যে এদের হার্টের অসুখের প্রবণতা অনেক বেশি। হৃদপিণ্ডের বাম নিলয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, পালমোনারি হাইপারটেনশন, উচ্চরক্তচাপ প্রভৃতি নানা জটিলতার সম্ভাবনা থেকে যায়, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা না করালে। সাধারণত রাতে ঘুমের সময় গ্রোথ হর্মোনের নিঃসরণ হয়, কিন্তু রাতে নাক ডাকার জন্য ঘুম
বিঘ্নত হলে, গ্রোথ হর্মোনের নিঃসরণ কমে যায়-ফলস্বরূপ শিশুটির গ্রোথ বা বৃদ্ধি ব্যাহত হয়ে থাকে।
  এছাড়াও বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে
osas থাকলে শিশুদের স্মৃতিশক্তি কমে যায়। শব্দভাণ্ডার বয়স অণুযায়ী গড়ে উঠতে পারে না, ফলে লেখাপড়ায় অনেক সময়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই সব বাচ্চাদের অ্যাডিনয়েড টনসিল অপারেশনের পরে কিন্তু লেখাপড়ায় উন্নতি হতে দেখা গেছে। বিভিন্ন উপসর্গ এবং পলিসোমনোগ্রাফি পরীক্ষার দ্বারা এই রোগ (osas) নির্ণয় করা হয়। যত তাড়াতাড়ি এই রোগ নির্ণয় করা যায়, শিশুটির ততই মঙ্গল। ---- অনুলিখন

শিশুদের সঙ্গে আপনি
যা করবেন,
যা করবেন না।
যা করবেন
    শিশুদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে পাল্টে ফেলুন।
    শিশুদের পড়া, খেলা এবং অন্যান্য গুনের বিকাশে উৎসাহিত করুন।
    শিশুদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব নয়, সবাইকে সমানভাবে ভালবাসুন।
    বাস্তববাদী গল্প বলুন, রূপকথাও বলুন। কিন্তু বলে দিন ওটা কাল্পনিক কাহিনী।
    বাড়িতে শান্তি বজায় রাখুন।
যা করবেন না
    শিশুদের গায়ের রঙ বা চেহারা নিয়ে বাঁকা কথা বলবেন না।
    শিশুদের সামনে কারও সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকুন।
    বড়দের মনমালিন্য হলে সেই রাগ শিশুদের ওপর ফলাবেন না।
    শিশুদের আদর ভালবাসা দিতে গিয়ে মাত্রা ছাড়াবেন না।   

Post a Comment

0 Comments