সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

ইসলাম ধর্ম ও মানব জীবন




ইসলাম ধর্ম ও মানব জীবন

অধ্যাপক (ডাঃ) এম, এ, ওয়াহাব 
সাবেক চেয়ারম্যান, ইউরোলজী বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ।    

আল্লাহতায়ালা, God,ভগবান বা ইশ্বর সম্পর্কে মুসলমান ও অমুসলমান সকলেরই ধারণা মোটের উপর একই রকম। তা হল এই যে, আল­াহ এক অদ্বিতীয় এবং সকল সৃষ্টির স্রষ্টা, পালনকারী ও ধ্বংশকারী । তিনি সকল শক্তির উৎস, সকল প্রশংসা তার জন্য, সর্বময় দয়ালু ও ক্ষমাকারী। সকল এবাদত তারই জন্য  । 

          পৃথিবী ও সৌরজগতের যা কিছু আছে সবই আল­হ মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছেন । বাতাস, পানি ও মাটি এই তিনটি মৌলিক উপাদান ছাড়াও মহাশুন্যে চন্দ্র সূর্য্যসহ যত  গ্রহ-নক্ষত্র ও উপগ্রহ আছে তা সবই মানুষের কল্যাণে আলো ও শক্তিদান করবার জন্য সৃষ্টি করেছেন। সমস্ত জীব জন্তু পশু-পাখী কীট পতঙ্গ মানুষের খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়। তাদের সৃষ্টি সেই জন্যই। ফসল, ফলমূল, পানি ও পানির মধ্যে আছে মাছ, সাগরের নিচ ও মাটির নিচের অফুরন্ত সম্পদও মানুষের কল্যাণেই ব্যবহৃত হয়। স্বভাবতই চিন্তা আসে এ সবই যদি মানুষের জন্য সৃষ্টি হয়ে থাকে তবে মানুষ সৃষ্টি হয়েছে কিসের জন্য ? আল­াহ রাব্বুল আলামীন তাই মানুষ সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তারই এবাদতের জন্য। মানুষ সৃষ্টির ওই একটাই উদ্দেশ্য। এই এবাদত করাই মানুষের একমাত্র কাজ ও পরীক্ষা। 
আমাদের অনেকেরই ভ্রান্ত ধারণা আছে যে, এবাদত বুঝি ঈমান আনা অর্থাৎ- আল­াহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, নামাজ কায়েম করা, রোজা রাখা, যাকাত আদায় করা এবং হজ্জ্বব্রত পালন করার মধ্যেই এবাদত সীমাবদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে মোটেই তা নয়। উপরোক্ত বিষয়গুলি পালন করতে যে সময়ের প্রয়োজন হয় তা ছাড়া আরও অনেক সময় থাকে। সে সব সময়ও এবাদত করার কথা। প্রতিটি চিন্তা, কথা ও কাজ সবই আল­াহর নির্দেশিত পথে ও প্রক্রিয়ায় করতে হবে। ইহাই এবাদত। যা কিছু আল­াহ তায়ালা আমাদের দান করেছেন তার জন্য সর্বদাই আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে তারই নির্দেশিত পথে এবং প্রক্রিয়ায়। তার অফুরন্ত নেয়ামতের ভান্ডার হতে তারই প্রদত্ত জ্ঞান ও শক্তি দ্বারা কাজ ও গবেষণা করে সব কিছু ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। সেই জন্য সবকাজ করতে হবে তারই নির্দেশিত পথে অর্থাৎ এবাদতের মাধ্যমে। সব কিছুই এবাদতের পর্যায়ের হতে হবে। কেউ সামান্য উপকার করলে আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি তাই যার দান সর্বদাই প্রহণ করছি সর্বদাই তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত এবং তার অণুগত থাকা উচিত। 
এবাদতের মাধ্যমে  আল্লাহতালাকে খুশীকরা তার নৈকট্য লাভ করার কতটুকু সময় আমাদের আছে তা আমাদের কারও জানা নেই। জানা না থাকলেও একথাও সত্য যে, সে সময়টুকু খুব বেশী নয়। একটি বিষয়কে এই সময় সল্পতার ঈঙ্গিত বলে মনে করা যেতে পারে। আজান ও তার জন্য নামাজের মধ্যবর্তী সময় খুব বেশী নয়। জন্মগ্রহণের পরে যে আজান দেয়া হয় তার জন্য নামাজ পড়া হয় জানাযায়। সুতরাং ওই মধ্যবর্তী সময়টুকতেই এবাদতের সুযোগ। বাড়তি আর কোন সময় নেই। ওই টুকুইবা কতটুকু তাও ত জানার উপায় নেই। যানবাহনে কোথাও যাবার বেলায় গন্তব্যস্থান নিকটবর্তী হলে আমরা নামবার জন্য তৈরী হই এবং সময়মত নেমেও যাই। নৈরাশ্যের বিষয় হইল এ দুনিয়া থেকে কখন যেতে হবে তাও জানা নেই। আর তা জানা নেই বলেই সব সময় তৈরী থাকাই ভাল এবং তাই বলা হয়েছে। অনেক কাজের মধ্যে একটি হলো আজান হলেই নামাজ পড়া, কারণ- পাছে নামাজ পড়ার আগেই চলে যেতে হয়। আর তা হলে একটা অবশ্য করণীয় কাজ বাকী রয়ে গেল। এমনি আরও অনেক বকেয়া সওয়াব জীবনের বাকী আছে। সর্বদাই চেষ্টা করা উচিৎ আপটু ডেট থাকা। এবদাত যেন সব সময় পরিপূর্ণ থাকে। বাকী থাকলে সম্পন্ন করার সময় নাও হতে পারে। 
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে এবাদত এবং জীবন যাপন প্রণালীর মধ্যে কোন  প্রভেদ নেই। আর জীবন যাপন প্রণালী আল্লাহর  প্রদর্শিত পথে তার আদেশ অণুযায়ী হতে হলে পবিত্র কোরান শরীফকেই অনুসরণ করতে হবে। পবিত্র কোরান শরীফ শুধু একটি গ্রন্থ্য নয়, ইহা আল্লাহ প্রদত্ত তাহার নির্দেশিত জীবন ব্যবস্থার নির্দেশ। সুতরাং পবিত্র কোরান শরীফ মেনে চললেই আল্লাহর  নির্দেশিত পথে চলা এবং এবাদত করা হল। কোরান শরীফ পড়ে এর বাস্তব প্রয়োগ যদি কারও কাছে অষ্পষ্ট বা কঠিন হয় তবে তারও ব্যবস্থা আল্লাহ রাব্বুল আলা-আমীন করেছেন। হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর জীবন যাত্রা অনুসরণ করলেই পবিত্র কোরান অনুসরণ করা হল। কোন মানুষের জীবনে এমন ঘটনা ঘটতে পারে না যা হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জীবন ঘটে নাই। সুতরাং সেই সব ক্রান্তিলগ্নে তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং যা করেছেন তাই করলেই সঠিক পথে চলা হলো। ইসলাম ধর্মমতে চলা অর্থাৎ আমল করা সহজ, সুন্দর এবং বাস্তবায়নের ব্যবস্থাও করা আছে। এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি যেমন সুদৃঢ়, যুক্তিপূর্ণ উপকারী তেমনি এর সামাজিক, আধ্যাতিক ও অর্থনৈতিক দিকটিও অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবধর্মী। মৌলিক বিষয়গুলির প্রতি দৃষ্টিপাত করলেই অনেকটা স্পষ্ট হয়ে দেখাদেবে উপরের মন্তব্যগুলি। ঈমান, নামাজ, রোজা, যাকাত ও হজ্জ্ব এই পাঁচটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, আল­াহ তায়ালা কাউকেও এমন কোন কাজ করতে বলেন নাই যা তার পক্ষে পালন করা সম্ভব নয়। 
ঈমান আনা অর্থাৎ বিশ্বাস স্থাপন করা হলো প্রথম কাজ। মানবিক শক্তি এবং দৃঢ়তাই এর  জন্য প্রয়োজন। ঈমান এবং আমল অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত। যাহা বিশ্বাস করা হয়েছে, অর্থাৎ- যার উপর ঈমান আনা হয়েছে, আমল না করলে ওই ঈমান সঠিক নয়। এরপর আসে নামাজ। নামাজের জন্য পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন। একটা পর্যায় অবধি শারীরিক সুস্থ্য থাকতে হবে এবং সামান্যতম হলেও প্রয়োজনীয় পোষাক পরতে হবে। আবার মানষিক স্স্থ্যুতা না থাকলে তখন নামাজ পড়তে বলা হয়নি অবস্থার পরিবর্তন না হলে। তেমনি রোজা রাখতে হলে কিছু আহারের প্রয়োজন ও শারীরিক সুস্থ্যতার দরকার। যার তা নেই তাকে তখন রোজা রাখতে বলা হয় নাই। অবস্থার পরিবর্র্তন হলে রাখতে হবে। যাকাত আদায় করাও একটা অবশ্যই করণীয় কাজ। ইহাও যার জন্য প্রয়োজন তাকেই দিতে বলা হয়েছে। অণুরূপ ভাবে হজ্জ্ব তাকেই পালন করতে বলা হয়েছে যার সঙ্গতি আছে এবং সর্ব শর্ত পূরণ হয়েছে। হজ্ব করার জন্য ধর্মে এর পরিস্কার ব্যাখা দেয়া আছে। সুতরাং আল্লাহর দেয়া এলেম অর্থাৎ জ্ঞান দ্বারা চালিত হয়ে আল্লাহর নিদের্শিত পথে সবাইকে চলতে হবে। ইহাই মানব জীবনের সার্থকতা।

Post a Comment

0 Comments