আগস্ট মাস জাতির শোকের মাস ।
– মনিরুজ্জামান ।
১৫ আগস্ট এদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কময় দিন । জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস । যে ব্যক্তি
আজীবন এদেশের স্বাধীনতা আর এদেশের মানুষের জন্য ত্যাগ করে গেছেন তাকেই
আজকের এই দিনে সপরিবারে নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয় । এমন
কলঙ্কময় ইতিহাস বিশ্বের আর কোথাও নেই । বঙ্গবন্ধু আমাদের সত্ত্বার সাথে
মিশে আছেন । বাংলাদেশের আরেকটি নাম শেখ মুজিবুর রহমান । শুধু এদেশেই নয়,
সারা বিশ্বেই বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশের নাম একই সাথে উচ্চারিত হয় ।
বঙ্গবন্ধু এদেশের স্বাধীনতা আর অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য দেশের এক প্রান্ত
থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে গেছেন । এ জাতির জন্য বঙ্গবন্ধু যে ত্যাগ স্বীকার
করেছেন তা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল । অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে নেতৃত্ব দিয়ে
তিনি এ জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন । তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশকে
উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার । বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে তার সেই
স্বপ্নকে থামিয়ে দেয়া হয় । বঙ্গবন্ধুর সেই ভেঙ্গে দেয়া স্বপ্নকে
বাস্তবে রূপদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নিরন্তর
পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ।
বঙ্গবন্ধু এ জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান । যতদিন এদেশ থাকবে, ততদিন
বঙ্গবন্ধুকে জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে । বঙ্গবন্ধু ছিলেন মানবতাবাদী
নেতা । এদেশের মানুষকে উন্নত জীবনমান প্রদানের লক্ষ্যে তিনি আজীবন কাজ করে
গেছেন ।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ড স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে
সবচেয়ে অশ্রুভেজা ও কলঙ্কময় রাত ছিল— ‘জাতির পিতা যে সোনার বাংলার স্বপ্ন
দেখেছিলেন, আমাদের দায়িত্ব হবে সে লক্ষ্যে কাজ করে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ
করা। তাহলেই তার বিদেহী আত্মা শান্তি পাবে ।’
ইতিহাসের বেদনাবিধুর ও বিভীষিকাময় এক দিন। বাঙালি জাতি আজ গভীর শোক ও
শ্রদ্ধায় তার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে স্মরণ করছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদা
ও ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে জাতীয় শোক দিবস। জাতির পিতাসহ তার পরিবারের
যারা এই দিনে শহীদ হয়েছিলেন, তাদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা ।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের যেসব সদস্য শহীদ হয়েছেন, তাদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই । ১৫ আগস্ট বাঙালির জন্য লজ্জা ও কলঙ্কের দিন । দেশের মানুষের জন্য অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করার পরও এই দেশেরই কতিপয় দুর্বৃত্ত তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে । এই কলঙ্ক হাজার বছর পরের প্রজন্মকেও বহন করতে হবে জাতীকে । ১৫ আগস্টের শোককে শক্তিতে পরিণত করে দুর্নীতি নামক অশুভ শক্তিকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার শপথ নিতে হবে । বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণ করতে হলে আমাদেরকে দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে । দুর্নীতি মানুষের মুক্তির প্রধান অন্তরায় । দেশের মানুষ যে যেখানে আছে, সেখান থেকেই কাজটি করতে হবে । বঙ্গবন্ধুর ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম’ এই অমিয় বাণীকে বাস্তব রূপ দিতে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির কাজে আমাদেরকে আত্মনিয়োগ করা উচিৎ । ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে । নতুন প্রজন্মের শিশু, কিশোর, তরুণ-তরুণীর উজ্জ্বল মুখ । এই প্রজন্মই সত্যিকার অর্থেই জাতির পিতার আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে, তারাই জাতির পিতার স্বপ্ন, বৈষম্যমুক্ত অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন, সংগ্রাম ও আদর্শ লালন করে দেশকে উন্নত শিখরে নিয়ে যাবে একদিন ।

0 Comments