” ঈদে মিলাদুন্নবী “ উপলক্ষে সকলকে চিত্রা বিচিত্রার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ ।
বিদায় হজের ঐতিহাসিক তাৎপর্যময় ভাষণে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিশ্ব মানবতার নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) সুস্পষ্ট শেষ ভাষনে , সোয়া লক্ষ সাহাবায়ে কেরামের জনসমুদ্রে সকলকে সতর্ক করেদিকনির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, # তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকবে । জেনে রেখো, তোমাদের পূর্ববর্তীগণ এই বাড়াবড়ির কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে। (এ নির্দেশনাটি হচ্ছে অমুসলিমদের ক্ষেত্রে) অর্থাৎ কোন বিধর্মীকে বাড়াবাড়ি বা জোরজবস্তি করে ইসলামে দীক্ষা দেয়া যাবে ) কোনো মুসলিম যেন কোনো অমুসলিমের জান ও মালের উপর অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ না করে । বরং অমুসলিমদের প্রতি সাদাচরণ করে । মানব জাতির ইতিহাসে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি কখনই কোনো কল্যাণ বয়ে আনেনি । বরং পৃথিবীতে যখনই কোনো সম্প্রদায় ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে তখনই তাদের পতন ত্বরান্বিত হয়েছে । ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি মানে ধর্মেরই অবমাননা । তাই আমরা ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে নিজেকে সর্বশ্রেষ্ঠ মানবিক গুণাবলির মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করি ।
আজ সেই, ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার, ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কার কুরাইশ গোত্রের সাধারণ পরিবারে মা আমিনার কোল আলোকিত করে পৃথিবীতে এসেছিলেন আমাদের প্রিয় শ্রেষ্ঠ নবি হজরত মুহাম্মদ (স) । আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী । প্রায় দেড় হাজার বছর আগে এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন হজরত মুহাম্মদ (সা. । ৬৩ বছর পর একই তারিখে ইন্তেকাল করেন রাসুল (সা.) । দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে একই সঙ্গে আনন্দ ও বেদনার দিন । এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করেন ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা ।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে এসেছিলেন পৃথিবী আলোকিত করার জণ্য, তিনি ইসলামের ধারক বাহক এবং শেষনবী । মক্কায় যখন অবিচার, অনাচার, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ বীরত্বের ও শৌর্য-বীর্যের প্রতীক ছিল, সে সময়ের অবাদ সংস্কৃতির সমাজ তাকে আকর্ষণ করতে পারেনি । তিনি নিজেকে এসব পঙ্কিলতা থেকে দূরে রেখেছিলেন । অবক্ষয়ের সময়েও সমাজ গড়ার চিন্তায় তিনি হিলফুল ফুজুল সংঘে যোগ দিয়েছিলেন । রিসালাতের আগেই মক্কার বিদেশি ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছিলেন । মক্কার শ্রেষ্ঠ ব্যবসায়ী ও নারীকুলের শ্রেষ্ঠ অনুপ্রেরণাদায়ী খাদিজা (রা)-এর ব্যবসার তত্ত্বাবধানকারী হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন । পরে তার সততা ও ব্যক্তিত্বের কারণে নিজ উদ্যোগে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন । ৪০ বছর বয়সে তিনি নবুয়ত লাভ করেন । দীর্ঘ ২৩ বছর ইসলামের শান্তি ও মানবতার বার্তা প্রচার করে ৬৩ বছর বয়সে রাসুল (সা.) ইন্তেকাল করেন ।

0 Comments