সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

নববর্ষ ও ঈদের শুভেচ্ছা

 


নববর্ষ ও ঈদের শুভেচ্ছা

সপ্তাহের সাত দিন, তার নাম সাত বার

সোমবার-সোম

নববর্ষ আমাদের প্রথম দিন থেকে নূতন স্বপ্নের, আশার বিশাল করে ফাটায় পারমাণবিক বোম।
নববর্ষ আমাদের প্রথম দিন থেকে নূতন স্বপ্নের, নূতন আশার যেন বৃহত্তর আকারে জালায় মোম,
পুরানো গ্লানি, ময়লা আর্বজনা মুছে ফেলে দিয়ে পথ করে পরিষ্কার, নববর্ষ যেন মেথর, সুইপার ডোম,
আবার মাঝে মধ্যে অমিলে ভুলে যাই উৎসবের উষ্ণে তুমি ও আমি জীবনযাপনের পাই নূতন উদ্যেম।

মঙ্গলবার-  মঙ্গল
নববর্ষ মনের ভিতর হটায় অন্ধকার মেঘ,দূর করে মানুষের গভীরে  গেঁথে থাকা পশুত্বের জঙ্গল,
নববর্ষ সবুজ মাটির প্রান্তরে আদুরে নানা মানুষের মনে মানুষের রং মেশায়,সাদা,সবুজ,কালো পিঙ্গল,
মানুষ মিলে মিশে বর্ণাঢ্য হয়ে যায়,একাকার একাত্ব হয়ে যায় মাটির ফলায়,যেন সে ধারালো লাঙ্গল,
সারা বিশ্বকে জানান দেয় মহাসামুদ্রিক গর্জন তুলে,যেন সে মানবিক মানুষ, যেন সে বাঙ্গালী-বেঙ্গল।

বুধবার-বুধ
নববর্ষ সারা বছরব্যাপী স্বপ্ন দেখাবে,  বুক ভরা বন্ধুত্ব, বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিবে বাটি ভরা দুধ,
থাকবেনা মোটাতাজাকরণ গরুর মত দেহ, থাকবে সুস্বাস্থ্য, থাকবে না অসুস্থতা, নিরাময়ে ঔষুধ,
থাকবে না শুত্রুতা পূরণে রাজনীতির অপকৌশল প্রয়োগে সস্তা আবেগ জড়িত বিরুদ্ধবাদীর  বিরুদ্ধ,
থাকবে না অন্ধ গোড়ামী,কুসংস্কার, অপসংস্কৃতি্র,ধর্মান্ধতার,বিষাক্ত  ছোবল,খোস পাঁচড়া দাউধ।

বৃহস্প্রতিবার-বৃহস্প্রতি
বছরের শুরুতে হতাশার লাভ –লোকসান  ভুলে গিয়ে হিষেব কষে,খুঁজে পায় নূতন আশার লাভ- ক্ষতি,
মধ্যে বাস্তব জীবনযাপনে দুঃখ ব্যথায় থেমে গেলেও,হতাশায় কিছুক্ষণ ডুবে থাকে , কিছু ক্ষণ পেল দীর্ঘ বিরতি তারপর হতাশায় ডুবে গিয়েও বসে থাকে না,ব্রেক কষে,উৎসাহ- উদ্দীপনায় জেগে উঠে ফিরে পায়  দুর্দান্ত গতি প্রকৃতি যা দেয় বন্যায়, বর্ষায়, গরমে,যদিও বিড়ম্বনা বাড়ালেও,  আবার প্রকৃতিতে ফিরে পায় জ্যোতি।

শুক্রবার-শুক্র
দেশ,মাটি ও মানুষেরা চকচকে বাহারী পোষাকে সেজে উঠলে, তারা হয় একেকজন একেক হীরের টুকরো মিলে মিশে একত্রে ঘুরে বেড়ায় যেন তারা প্রম আত্মীয় স্বজন, বিশাল কর্মযজ্ঞে একটা ছোট্ট চা চক্র যেন  তারা এক মাটির সন্তান, ঘুরে ফিরে কাছে আসে,ঘুরছে, ঘুরছে যেমন পৃথিবীর গোলাকার বক্র
নববর্ষ অন্য জাতের সঙ্গেও মিলে মিশে গড়বো মানবিক বিশ্ব,যেমন মিশে  থাকে মুরগী বন কুঁকড়ো ।

শনিবার- শনি
নববর্ষ আসলেই পুরো বাংলাদেশ হয় মাতোয়ারা, চারিদিকে উঠে  মানুষের কোলাহল জয় ধ্বনি
বাঙ্গালীরা পুরানো দুঃখ-ব্যথা ত্ততক্ষণাৎ জর্জরিত হলে, পরক্ষণে সহজে ভুলে যায়,সে হ্য়
আনন্দ বরণী দুঃখ ভোলার ঐতিহ্য আছে,সংস্কার আছে, আছে মা ও মাটিকে ভালবাসতে নূতন প্রজন্মের সোনামনি বাঙালীর আছে তার সমৃদ্ধ ইতিহাস, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, জ্ঞান, সমৃদ্ধ অর্থনীতির নানা ধরনের আকর খনি

রবিবার –রবি
নববর্ষ বাঙ্গালীকে নূতন  সাজে সজ্জিত করে তার স্বপ্নকে, আবার উস্কে দ্যায়,যেন তার নূতন আঁকা ছবি
উৎসবে উৎসবে সে হয়ে উঠে মহামুল্যবান, বর্ণাঢ্য এক চরিত্র, কখনো সে কবিতার পাঠক,  সে কবি
তারপ্রর স্মৃতিগুলো জোশ জাগালেও, তার হাত পা,নাক,কান, চো্‌খ, মুখ বুক পিঠ নিথর হয় সবি
আবার সে জাগে, আশার স্বপ্নে,সে জাগায় , এটা তার স্বভাবব্জাত, চিরকালীন নিত্য নৈমিত্তিক হবি

 বাংলা ব্যাকরণে-প্রত্যয়
প্রত্যয় –এ ঈদ  ও রোজা (অন্ত- প্রত্যয়)

রোজা ও ঈদের আদর্শ যাই হোক না কেন? পালা-পার্বণ আসলেই বিশেষ করে উড়ন্ত (উড়+অন্ত) দ্রুতযান প্রতিযোগিতার ঘুরন্ত (ঘুর+অন্ত)গতির ঘূর্ণির পৃথিবীর তরুণ-তরুণীদের হৃদযন্ত্রের মনে মনে থাকে জীবন্ত(জীব+অন্ত)। আর তাদের দুরন্ত (দুর+অন্ত)-দুরান্তপনার ছটফটানিতে থাকে জলন্ত (জল+অন্ত)। আকাশ ও দিগন্ত (দিক+অন্ত)ব্যাপী থাকে বিশাল ছায়া।নীচের জমিনের হাওয়ায় বইতে থাকে জ্ররুরী নিত্য প্র্য়োজনীয় খাদ্য পণ্যের বাড়ন্ত (বাড়+অন্ত) অস্বাভাবিক উচ্চ মূল্যের নাভিশ্বাস উঠা হাহুতাশ ও হাহাকার।আর ঝলমলে নিওন সাইনে হাদিস ও কোরানের বাণীপুঞ্জগুলো যেন অনন্ত (অন+অন্ত) কাল ধরে আটকিয়ে থাকে, কোনকিছুতে বের হয় না।মন স্পর্শ করা তো দু্রের কথা।রোজা ও ঈদ পণ্যের ঝুলন্ত (ঝুল+অন্ত) বিজ্ঞাপণগুলো ঠোঁটে হাসি ফোটায়, আনন্দ লাগায়,কিন্তু ফলন্ত ( ফল +অন্ত) গাছের মত ফলদায়ক হয় না, কখনো টুপটাপ ঝরে পড়ে মাটিতে।উৎসবে উৎসবে, মিডিয়ায়,মোবাইলে,অনলাইনে থাকে খুব বেশী টগবগে ফুটন্ত (ফুট+অন্ত)। সারা মাসব্যাপী হরেক রকমের ডিজাইন ও ফ্যাশনের কেনাকাটায় তরুণ তরুণীদের মনে যত থাকে ছুটন্ত (ছুট+অন্ত), ততটা থাকে না  মন রোজার সিয়াম সাধনায়। তারপর সব ফিউজ হয়ে যায়।থাকে শুধু  উজ্জল আলোকধারী  বাতিগুলো বাকি সময় ডুবন্ত (ডুব+অন্ত)।তারপ্রর  বহুদিন  স্প্রিড বাড়িয়ে চলন্ত (চল+অন্ত) থাকার পর, পড়ন্ত (পড়+অন্ত)  বেলায় বৃদ্ধ বয়সে এসে পড়ে থাকে নিবন্ত (নিব+অন্ত)। বাকি এগারো মাসে হৃদযন্ত্রে ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়, থাকে ঘুমন্ত (ঘুম+অন্ত) কোনকিছুতে  আর জাগে না।

-মুজিবুস সামাদ, সহ-সম্পাদক,  চিত্রা বিচিত্রা।

Post a Comment

0 Comments