সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী



 জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী

 

হারুন রশীদ :

 ‘বল বীর - বল চির উন্নত মম শির’ ঔপনিবেশিক আমলে সমগ্র ভারতবর্ষকে এই নির্ভয় মন্ত্র

উচ্চারণে যিনি সাহস জুগিয়েছিলেন সেই দ্রোহ, সাম্য, মৈত্রী এবং প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলামের

আজ ৩৪তম প্রয়াণ দিবস। বাংলাদেশের জাতীয় কবি নজরুল সর্বদা ছিলেন শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে

বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। ঔপনিবেশিকতার নাগপাশ থেকে বেরিয়ে তিনি ব্রিটিশ-ভারতে স্বাধীনতার

স্বপ্নমন্ত্র উচ্চারণ করেন সদর্পে। প্রকৃতপক্ষে নজরুল ছিলেন উপনিবেশবাদ, সামন্তবাদ, পুঁজিবাদ,

ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা, রক্ষণশীলতা, আঞ্চলিকতা, কূপমণ্ডূকতা, গোঁড়ামি এবং মানুষের ওপর

মানুষের শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। হাজার বছরের বাংলা সাহিত্যের

ইতিহাসে তার চেয়ে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক কবির আবির্ভাব ঘটেনি। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের এই দিনে

বিদ্রোহের অগ্নিবীণা আর দোলনচাঁপার কবি নজরুল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

 সৃষ্টি সুখের বাঁধ ভাঙা উল্লাস নিয়ে যে কবির জন্ম সে কবির দেহান্তর ঘটলেও তার সৃষ্টি সম্ভার

এখনো বাঙালি জাতির অনুপ্রেরণার উৎস। তার গান, গল্প, কবিতা, উপন্যাস বাঙলা সাহিত্যে

চিরভাস্বর।

৭৬ বছরের জীবনে তার সৃষ্টিশীলতার বয়স মাত্র ২২ বছর। এই অল্প সময়েই তিনি অসামান্য সব সৃষ্টি

সম্ভার রেখে গেছেন। দুরারোগ্য ব্যাধিতে বাকরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ঝরনার মতো চলেছে তার

বজ্র লেখনী। তার তারুণ্যদীপ্ত বজ্র নির্ঘোষ আমাদের অন্যায় শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে

শিখিয়েছে। কেবল লেখার জন্য কোনো কবি-সাহিত্যিকের এতো বই বাজেয়াপ্ত হয়নি। তার বজ্রবাণী

শাসকের আসন টলিয়ে দিতো বলেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন শোষকের চক্ষুশূল। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা

ঋগ্ধ নজরুল পেয়েছেন অনন্য সম্মান। বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা। তার রচিত ‘চল চল চল

ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল নিম্নে উতলা ধরণী তল’ আমাদের রণসঙ্গীত। তার গান গেয়ে যুদ্ধে যাওয়া

যায়। আবার তার গানই প্রেমের অমিয় বাণী উচ্চারণ করে। নজরুল নিজেই বিদ্রোহী কবিতায় যেমনটি

বলেছেন-‘মম একহাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরি আর হাতে রণতূর্য’।

উত্তর ঔপনিবেশিক সময়ে নজরুলকে আজ নতুন করে মূল্যায়নের সময় এসেছে। তিনি বাংলার জলবায়ু

মাটি মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন তার পরিপূর্ণ মানবদৃষ্টির প্রাখর্যে। তার অগ্নিমন্ত্রে

দীক্ষিত হয়ে বাঙালি বাহান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও স্বাধীন

বাংলাদেশের অভ্যুদয় পরবর্তী কালখণ্ডে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত রুখে দাঁড়িয়েছে।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসুস্থ নজরুলকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। তৎকালীন

সরকার তাকে জাতীয় কবির মর্যাদায় অভিষিক্ত করে।

এই মহান কবিকে স্মরণ করতে হবে তার সাহিত্য, তার আদর্শের পথেই। তাকে কখনো ভুলবার নয়।

কবি নিজেই যেমন বলেছেন- ‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাবো, তবু আমারে দেবো না ভুলিতে’।

Post a Comment

0 Comments