ডোনাল্ড ট্রাম্প পাঁচবার টেলিফোন করেছেন, মোদি ধরেননি : গোলাম মাওলা রনি
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, নরেন্দ্র মোদির অভিমান ভাঙানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাঁচবার টেলিফোন করেছেন, কিন্তু মোদি টেলিফোন ধরেননি। এ বিষয়ে আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি বহুদিন পশ্চিমা দেশে থেকেছি। ইউরোপ, আমেরিকার বহু দেশে গিয়েছি এবং দীর্ঘ সময় ধরে বহু শহরে থেকেছি।গায়ের রং একটু সাদা হলে তারা আমাদের এশিয়ানদের মানুষ মনে করে না।
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম মাওলা বলেন, শুধু বাংলাদেশ-ভারত নয়, শ্রীলঙ্কা-চীনের যারা লোকজন আছেন, তাদেরকেও তাচ্ছিল্য করেন। কিন্তু আরবের যারা লোকজন, যাদের টাকা-পয়সা আছে তাদের লেখাপড়া থাকুক বা না থাকুক, তাদের দেখলে ইউরোপের লোকজন বেশ তোয়াজ করেন। আমেরিকান সোসাইটি এবং ইউরোপিয়ান সোসাইটি— এগুলো টাকার পেছনে ছোটে। অনেকেই দেখি যে খুব বোহেমিয়ান জীবনযাপন করে। ওরা আমাদের দেশে যেমন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের প্রতিভূ। আর দু-একজনকে দেখি, যারা কোনো একটা কম্পানির সিইও বা অনেক টাকা, তারা দরিদ্রতার ভাব দেখায়। ওটা এক ধরনের ভণ্ডামি। ওই সমাজে যারা আছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের প্রতিভূ। প্রচণ্ড অহংকারী ও সব সময় চান যে তার প্রশংসা করা হোক।
তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার জন্য মোদি অনেক কিছু করেছেন। এত ছাড় দিয়েছেন আমেরিকাকে, যা বলার মতো নয়।
বাংলাদেশের বিষয়ে, পাকিস্তানের বিষয়ে, চীনের বিষয়ে তিনি প্রচুর ছাড় দিয়েছেন বন্ধুত্বের মর্যাদা রক্ষা করার জন্য। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপদের সময় যখন সারা দুনিয়াতে কেউ তার পাশে ছিল না। তিনি যখন আসামি হয়ে বাইডেনের যুগে বারবার কোর্টে হাজিরা দিচ্ছিলেন তার অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে পড়েছিল। তার নাম যখন কেউ উচ্চারণ করত না, ঠিক সেই সময়টাতে তাকে জয়লাভ করে আনার জন্য মোদি তার যে ফাইন্যান্সিয়াল হ্যান্ডসগুলো রয়েছে, আম্বানীদের দিয়ে যথেষ্ট সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনে মোদির যথেষ্ট বিনিয়োগ রয়েছে।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, মোদি আশা করেছিলেন অ্যাটলিস্ট চলমান যে সম্পর্কগুলো রয়েছে, সেই সম্পর্কগুলো বহাল থাকবে। আর নতুন করে ট্রাম্পের যুগে ভারতকে তিনি এমন কিছু উপহার দেবেন, যে উপহারের ফলে ভারতের রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদি এবং তার দল বিজেপি তারা একটা ভালো অবস্থানে থাকবে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পশ্চিমা সংস্কৃতি, গায়ের রঙের আভিজাত্য এবং ভারতীয়দের ন্যাটিভ মনে করার যে চিন্তা— এই কারণে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হয়ে তার যে একজন পরীক্ষিত বন্ধু তাকে তিনি অপমান করলেন।
রনি বলেন, আগেরবার যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছিলেন তখন নরেন্দ্র মোদিকে তার খুব দরকার ছিল। ফলে তিনি মোদিকে সেখানে পাবলিক মিটিং করার অনুমতি দিয়েছিলেন। মোদি পাবলিক মিটিং করেছিলেন আমেরিকাতে। সেটাকে রিটার্ন দেওয়ার জন্য নরেন্দ্র মোদি সস্ত্রীক ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দাওয়াত করেন, রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল ভেঙে তাকে তার নিজের রাজ্য গুজরাটে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাকে সম্মানিত, আশ্চর্য করার জন্য যা করেছেন এটা ভারতের ইতিহাসে কখনো কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানকে নিয়ে ভারতীয় কোনো সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান করেননি।
রনি আরো বলেন, যেই মুহূর্তে আঙুল বাঁকা করেছেন ট্রাম্প, নরেন্দ্র মোদিও আর হাউমাউ করে কাঁদেননি। তিনি পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছেন। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা নিয়ে বাইডেনের জমানা থেকে ভারতের সঙ্গে একটি টানাপোড়েন যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ভারতের যুক্তি— এখন পর্যন্ত রাশিয়ার তেল কেনা। সবচেয়ে বেশি তেল কিনছে চীন। চীনের বিরুদ্ধে তো আমেরিকা কিছুই করতে পারছে না। সেখানে ভারত কিনলে অসুবিধা কী? ট্রাম্প এসেই ভারতকে শুল্ক আরোপ করেছে। সুত্রে- কালের কন্ঠ-৩১ আগস্ট, ২০২৫


0 Comments