সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ৫৮৩

 শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ৫৮৩

-সমীর কুমার দে, ডয়চে ভেলের ঢাকা প্রতিনিধি ।  

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার রায়ের তারিখ বৃহস্পতিবার জানা যাবে৷ এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মোট ৫৮৩টি মামলা দায়ের হয়েছে ৷ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা ৫৮৩টি মামলার মধ্যে ৩২৪টি হত্যা মামলা, সাতটি দুদকের করা মামলা.

এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মোট ৫৮৩টি মামলা দায়ের হয়েছে ৷ 

এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গত ২৫ জুন পর্যন্ত দায়ের হওয়া ২৭টি মামলা আছে৷ সবকটিতে শেখ হাসিনাকে আসামি করা হয়েছে ৷

৫৮৩টি মামলার মধ্যে ৩২৪টি হত্যা মামলা ৷ এছাড়া দুদকের করা মামলা আছে সাতটি ৷ পুলিশ সদরদপ্তরের এক হিসাবে দেখা গেছে, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন পরবর্তী সারা দেশে ১ হাজার ৬০২টি মামলা দায়ের হয়েছে ৷ এসব মামলায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, হামলা ভাঙচুর, মারধর, অগ্নিসংযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ করা হয়েছে ৷ এর মধ্যে হত্যা মামলা হয়েছে ৫৯৯টি আর অন্যান্য মামলা হয়েছে এক হাজার তিনটি ৷ এর মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঢাকাসহ সারা দেশের থানা ও নিম্ন আদালতে ৩২৪টি হত্যা মামলাসহ মোট ৫৭৬টি মামলা দায়ের হয়েছে ৷

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন,    গুম সংক্রান্ত একটি মামলায় চার্জশিট হয়েছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৷ সেটির শুনানি এখনও শুরু হয়নি৷ এছাড়া বেশ কয়েকটি মামলার তদন্ত কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে৷ সেগুলোতে পর্যায়ক্রমে চার্জশিট দেওয়া হবে ৷''

শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন আইনি লড়াই করেছেন ৷ শেখ হাসিনার পক্ষে কেউ আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কী না জানতে চাইলে আমির হোসেন বলেন, ‘‘শেখ হাসিনা বা তার পক্ষে কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি ৷ তারা কোনো তথ্য উপাত্তও আমাকে সরবরাহ করেনি ৷ রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যা পেয়েছি সেটা এবং নিজের আইনজীবী জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আমি শেখ হাসিনার পক্ষে ডিফেন্স করেছি ৷''    

বিচার প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ হচ্ছে?

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্বচ্ছ এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিচার অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম ৷ তিনি বলেন, এখন দেশে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দৃঢ়তার সঙ্গে এ ধরনের পদক্ষেপকে রুখে দেবে বলে তার বিশ্বাস৷ বুধবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন ৷

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে- এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রসিকিউটর মিজানুল বলেন, তিনি নিঃসন্দেহে বলতে পারেন যে স্বচ্ছ এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিচার অনুষ্ঠিত হচ্ছে৷ তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে একটা প্রোপাগান্ডার অংশ হিসেবে তারা এটা বলছে ৷

এখন বাইরে যেগুলো (বাসে আগুন, ককটেল বিস্ফোরিত প্রভৃতি) হচ্ছে, এগুলো ‘থ্রেট টু জাস্টিস' (ন্যায়বিচারের জন্য হুমকি) কী না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর মিজানুল বলেন, তিনি থ্রেট টু জাস্টিস মনে করেন না ৷ তবে তারা এই বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য করছে, এটুকু বলতে পারেন৷একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বৃহস্পতিবার কি রায়ের তারিখ পাওয়া যাবে, নাকি আবার অপেক্ষায় থাকতে হবে, এ রকম একটা গুঞ্জন আছে? এর জবাবে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, রায় দেওয়া, রায়ের দিন নির্ধারণ করার এখতিয়ার পুরোপুরি ট্রাইব্যুনালের৷ তবে তারা বিশ্বাস করেন যে বৃহস্পতিবার রায়ের তারিখ পাওয়া যাবে ৷

আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর মিজানুল বলেন, এ ট্রাইব্যুনাল কোনোভাবেই কোনো বৈদেশিক ট্রাইব্যুনাল বা সংস্থা বা সরকার কারও দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়৷ বিচারের ক্ষেত্রে বিচারকেরা স্বাধীন৷ এমনকি কোনো প্রসিকিউশনের কোনো বক্তব্য শুনতে বা প্রসিকিউশন যদি বলেন এটা করেন, তা করতে বিচারকেরা করতে বাধ্য নন৷তবে প্রবীণ আইনজীবী জেড আই খান পান্না ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিচার প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ হচ্ছে সেটা দেশের মানুষের সঙ্গে আমিও দেখছি৷ এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না৷ তবে যদি কোনোদিন পট পরিবর্তন হয়, আওয়ামী লীগ ফিরে আসে তাহলে এই রায় টিকবে না ৷ যেভাবে ড. ইউনূস আসার সঙ্গে সঙ্গে তার মামলা বাতিল হয়ে গেল৷ সেই কারণে কী সাজা হলো বা হলো না সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ না৷ আমি এই বিচারকে গুরুত্ব দিচ্ছি না ৷''


‘রাষ্ট্রদ্রোহ', বিচারের জন্য প্রস্তুত আরেকটি মামলা

শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে' অংশ নেওয়ার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় তা বিচারিক আদালতে বদলি করা হয়েছে৷ মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম ইশরাত জেনিফার জেরিন এ আদেশ দেন৷ তিনি বিচারের পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন৷ ‘জয় বাংলা ব্রিগেড' এর জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে তারা সরকারকে ‘উৎখাতের' চেষ্টা করেন বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়৷

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. সালাহউদ্দিন বলেন, মামলায় ভারতে অবস্থান করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৬১ জন পলাতক৷ তাদের আদালতে হাজিরের জন্য গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার প্রতিবেদন এসেছে৷ এরপর মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় তা বিচারিক আদালতে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে৷-   সুত্রে- ডয়চে ভেলের ।

Post a Comment

0 Comments