সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

প্লট না নিলেও টিউলিপ সিদ্দিককে সাজা দেওয়ার যে কারণ বলেছে আদালত

 




প্লট না নিলেও টিউলিপ সিদ্দিককে সাজা দেওয়ার যে কারণ বলেছে আদালত

জান্নাতুল তানভী, বিবিসি নিউজ বাংলা, ঢাকা, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

টিউলিপ সিদ্দিক নিজে প্লট না নিলেও মা শেখ রেহানাকে প্লট পাইয়ে দিতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও খালা শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করেছেন বলে মামলায় বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি এবং বর্তমান ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট দুর্নীতির মামলায় কেন দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত তা রায়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

একইসাথে, প্লট গ্রহীতা তার মা শেখ রেহানাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, তার খালা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাকি ১৪ আসামিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৪ এর বিচারক রবিউল আলম।

এই মামলার অভিযোগে টিউলিপ সিদ্দিক নিজে প্লট না নিলেও মা শেখ রেহানাকে প্লট পাইয়ে দিতে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার খালা শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, এই রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় মিজ সিদ্দিক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।বৃটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি মন্তব্য করেছেন, পুরো বিচার প্রক্রিয়াটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত 'ত্রুটিপূর্ণ ও প্রহসনমূলক' ছিল।

তিনি বিবিসিকে বলেছেন, তার কাছে এই মামলার বিষয়ে কোনো সমন বা অভিযোগ পত্র পাঠানো হয়নি, বাংলাদেশি কোনো কর্তৃপক্ষের কেউ তার সাথে কখনো যোগাযোগও করেনি। তার দল যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টিও বলেছে, তারা এই বিচারকে স্বীকৃতি দেয় না কারণ মিজ সিদ্দিককে আইনগতভাবে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।


পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির মামলায় শেখ হাসিনা ও তার সন্তানদের দণ্ড, রায়ে যা বলেছে আদালত

ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে করা তিন মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং সজীব ওয়াজেদ জয়কে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।একইসঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, কোনো আবেদনপত্র ছাড়াই এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের নামে প্লট বরাদ্দ করা হয়েছিল।

এদিকে, এ রায় সম্পর্কে সজীব ওয়াজেদ জয় বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "একটা মিথ্যা মামলা আমাদের বিরুদ্ধে সাজানো হয়েছে, যাতে আমরা নির্বাচন না করতে পারি। এই রায়গুলোর মূল উদ্দেশ্যই হলো যাতে আমার মা, আমার পরিবারের কেউ নির্বাচন করতে না।" ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের পর এবার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় দ্বিতীয় রায় হলো।

তবে শেখ হাসিনা, তার ছেলে ও মেয়ে সকলে পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই এই মামলার বিচার হয়েছে।এ মামলার ২৩ জন আসামির মধ্যে কেবলমাত্র রাজউকের একজন কর্মকর্তা খুরশিদ আলম কারাগারে রয়েছেন।

মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে আত্মসর্মপণ করেন তিনি। আসামি মি. আলমের এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ২৩ জনের মধ্যে এই একজন আসামিই শুধু কারাগারে রয়েছেন। রায়ের দিন সকালে বৃহস্পতিবার তাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।


রায় সম্পর্কে সজীব ওয়াজেদ জয় যা বলছেন

রায় ঘােষণার আগে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, "একটা মিথ্যা মামলা আমাদের বিরুদ্ধে সাজানো হয়েছে, যাতে আমরা নির্বাচন না করতে পারি।" অনিয়ম করে রাজউকের প্লটগুলাে বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে – সে অভিযোগের জবাবে তিনি দাবি করেছেন তারা আইন অমান্য করেননি।

তিনি বলেছেন, "আমার নিজস্ব কোনো জমি নাই। আমার যে জমি আছে সেটা আমার বাবার ছিল। আমি কোনোদিন ঢাকা শহরে বাংলাদেশে কোনো জমি কিনিনি। আমার যে খালাতো ভাই-বোনেরা তাদের কিন্তু নিজস্ব কোনো জমি নেই। তারা যে পৈত্রিক সম্পত্তি পেয়েছে সেটাই আছে।"

"তো স্পষ্ট এখানে যারা একটা জমি কেনে নাই তারা কিন্তু একটা কিনতে পারে। আমাদের পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ছাড়া বাংলাদেশে আমাদের কোনো জমি নেই। এই একটা মাত্র জমি আমরা প্রথমবারের মতো নিজেদের অর্থায়নে কিনলাম।"

"এখানে কিন্তু আইন একদম স্পষ্ট। যে যাদের কোনো জমি নাই তারা কিনতে পারে। এখন আপনারা দেখেন আমার অন্য কোনো জমি আছে কিনা বাংলাদেশে। আমার খালাতো ভাই- বোনের অন্য কোনো বাড়ি আছে কি না। আমাদের কোনো জমি নাই।"  সুত্রে- বিবিসি বাংলা।










Post a Comment

0 Comments