১০ ই আগস্ট ২০২১ ইং বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী ” এসএম সুলতানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারন ।
বিশ্ববিখ্যাত চিত্র শিল্পী এস এম সুলতান ও তার আত্ম প্রতিকৃতি ।
লেখক - এটিএম.মনিরুজ্জামান ।
সুলতানের বাল্যকাল : বিশ্ব বরেণ্য এ শিল্পী ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইল শহরের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । তার জন্ম হয়েছিল দরিদ্র কৃষক-পরিবারে । তার মায়ের নাম মোছাম্মদ মেহেরুননেসা । তার বাবা শেখ মোহাম্মদ মেসের আলী, তিনি পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রী । তবে কৃষিকাজই ছিল তার বাবার মূল পেশা, পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য ঘরামির কাজ করতেন । সুলতান ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান । শৈশবে বাবা মা আদর করে নাম রাখেন “ লাল মিয়া “ । স্কুলে পড়ানোর মতো সামর্থ্য তার পরিবারের না থাকলেও ১৯২৮ সালে নড়াইলের ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে লাল মিয়াকে ভর্তি করানো হয় । ১৯৩৮ সালে ৮ম শ্রেনীতে উঠে তখন তিনি সেই বিদ্যালয়ে (পড়াশনা ) ছেড়ে দেন । পরে বাবার সহযোগী হিসেবে রাজমিস্ত্রীর কাজ শুরু করেন । এ সময় বাবার ইমারত তৈরির কাজ সুলতানকে প্রভাবিত করে এবং তিনি রাজমিস্ত্রীর কাজের ফাঁকে আঁকাআঁকি শুরু করেন ।
আহমদ ছফা লিখেছেন “সুলতানের বাল্যবয়সের চরিত্র-গঠন সম্পর্কে : “ কোনো কোনো মানুষ জন্মায়, জন্মের সীমানা যাদের ধরে রাখতে পারে না । অথচ যাদের সবাইকে ক্ষণজন্মাও বলা যাবে না । এরকম অদ্ভুত প্রকৃতির শিশু অনেক জন্মগ্রহণ করে জগতে, জন্মের বন্ধন ছিন্ন করার জন্য যাদের রয়েছে এক স্বভাবিক আকুতি । শেখ মুহাম্মদ সুলতান সে সৌভাগ্যের বরে ভাগ্যবান, আবার সে দুর্ভাগ্যের অভিশাপে অভিশপ্ত ।”
প্রথম আত্মপ্রকাশ : ১০ বছর বয়সে, যখন তিনি নড়াইলের ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে পড়েন তখন আশুতোষ মুখার্জির ছেলে ড. শাম্যপ্রসাদ মুখার্জি স্কুল পরিদর্শনে এলে সুলতান তার একটি পেন্সিল স্কেচ আঁকেন । শাম্যপ্রসাদ তার আঁকা স্কেচ দেখে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন এবং এই পেন্সিল স্কেচের মাধ্যমেই শিল্পী হিসেবে সুলতানের প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে ।
কলকাতা আর্ট কলেজে পড়াশোনা ছবি আঁকার প্রতিভার কারণে শৈশব থেকেই এলাকার জমিদার ধীরেন্দ্রনাথ রায়ের স্নেহ লাভ করেন সুলতান । ধীরেন্দ্রনাথের ভাইয়ের ছেলে অরুণ রায় তখন কলকাতা আর্ট স্কুলের ছাত্র । সেই অরুণ রায়ের কাছে সুলতান ছবি আঁকা শিখতে শুরু করেন । গতানুগতিক পড়াশোনার প্রতি সুলতানের আগ্রহ ছিল না কখনই । ছবি আঁকা শেখার জন্য কলকাতায় পাড়ি জমান । বয়স কম হবার কারণে তখন কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তি হতে পারেননি । সুলতান ছবি আঁকার চর্চার জন্য কখনও ধীরেন্দ্রনাথ রায়ের বাড়ি, কখনও তার ভাই সত্যেন রায়ের বাড়ি, কখনও তাদের অন্যান্য ভাইদের বাড়িতে থেকে তিন বছর ছবি আঁকার চর্চা করেন ।
কলকাতা আর্ট স্কুল ও সোহরাওয়ার্দী সংস্পর্শে সুলতান : ১৯৪১ সালে তিনি কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা দেন । পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৪০০ ছেলেমেয়েকে ১৫ মিনিটে ভেনাস মিলোর ছবি আঁকতে দেয়া হয় তার মধ্যে সুলতান প্রথম হন । কিন্তু এন্ট্রান্স পাশ না থাকার কারণে তার ভর্তি নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হলে তখন শাহেদ সোহরাওয়ার্দীকে বিষয়টা ধীরেন্দ্রনাথ রায় অবগত করেন । সোহরাওয়ার্দী তখন প্রখ্যাত শিল্প সমালোচক এবং কলকাতা আর্ট স্কুলের অন্যতম পরিচালনা পরিষদের সদস্য । পরে সোহরাওয়ার্দীর সাহায্যে সুলতান কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তি হন । আর্ট স্কুলে ভর্তি হবার সময় সুলতানকে সোহরাওয়ার্দী পরামর্শ দেন যে ভর্তির কাগজপত্রে লাল মিয়া না লিখে ‘শেখ মোহাম্মদ সুলতান’ লিখতে । সোহরাওয়ার্দী সুলতানকে সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা করতে থাকেন । কলিকাতায় সুলতান পড়াশোনার জন্য তার বাসায় ও তার ভাই শহীদ সোহরাওয়ার্দীর বাসায় থেকে করেছেন ।
কলকাতা আর্ট স্কুলের অন্যান্য ক্লাসে তখন জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান, সফিউদ্দিন আহমেদ, রাজেন তরফদার, আনওয়ারুল হকের মত মানুষেরা পড়াশোনা করতেন । যার ফলে তাদের সাথে সুলতানের ভাল যোগাযোগ ঘটে । তিনি পড়াশুনার পাশাপাশি মঞ্চনাটকে অভিনয় করেও প্রশংসা অর্জন করেন । ছাত্র হিসেবে সুলতান ভালো ছিলেন ।
১৯৪০-এর দশকে আর্ট স্কুল ছেড়ে সুলতান দেশভ্রমণে বের হয়ে পড়েন । শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাঁধাধরা জীবন এবং প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার কঠোর রীতিনীতি সুলতানের জীবনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিলো না । তিনি ছিলেন স্বাধীন ছিন্ন- জীবনাচারের অনুসারী এবং প্রকৃতিগতভাবে ছিলেন ভবঘুরে এবং ছন্নছাড়া । প্রকৃতিকে তিনি সবসময় রোমান্টিক কবির আবেগ দিয়ে ভালোবেসেছেন । আবার যান্ত্রিক নগরজীবনকে সেরকমই ঘৃণা করেছেন । ১৯৪৩ সালে তিনি খাকসার আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন । এর অব্যবহিত পরেই বেরিয়ে পড়েন এবং উপমহাদেশের পথে পথে ঘুরে তার অনেকটা সময় কেটে যায় । তখন ছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় । অনেক মার্কিন ও ব্রিটিশ সৈন্য ছিলো ভারতে । তিনি ছোট-বড় বিভিন্ন শহরে ঘুরে ঘুরে ছবি এঁকে তা সৈন্যদের কাছে বিক্রি করতেন । এভাবেই তিনি সেসময় জীবনধারণ করেছেন । মাঝে মাঝে তার ছবির প্রদর্শনীও হয়েছে । এর মাধ্যমে তিনি শিল্পী হিসেবে কিছুটা পরিচিতি লাভ করেন । সুলতানের চরিত্রে পার্থিব বিষয়ের প্রতি যে অনীহা এবং যে খামখেয়ালীপনা ছিলো সেই কারনে ছবিগুলো সংরক্ষন বা রক্ষা করেনি । এছাড়া এক স্থানে তিনি কখনও বেশি দিন থাকেন নাই ।
কর্ম জীবন : ১৯৪৭ বিভক্তির পর এস এম সুলতান কিছু দিনের জন্য নিজ দেশ তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলদেশে) ফিরে আসেন । পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলদেশে) কিছুদিন থেকেই তৎকালিন (পশ্চিম পাকিস্তান) এর করাচি চলে যান । সেখানে পারসি স্কুলের শিল্প শিক্ষক হিসেবে দুই বছর চাকুরি করেছিলেন । সেখানে চাকুরিরত থাকা অবস্থায় তার সাথে পরিচয় হয় চুঘতাই এবং শাকের আলীর মত বিখ্যাত শিল্পীদের । এর কিছু আগে ১৯৫০ সালে চিত্রশিল্পীদের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান । সেখানে নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন, শিকাগো এবং বোস্টনে তার ছবির প্রদর্শনী হয় । এরপর লন্ডনেও তিনি প্রদর্শনী করেছিলেন । ১৯৫৩ সালের অক্টোবরে তিনি আবার নড়াইলে ফিরে আসেন । তার কিছুদিন পর তিনি চলে আসেন চাচুঁড়ি পুরুলিয়া তে । এখানকার পরিত্যক্ত কৈলাসটিলা জমিদারবাড়িটি পরিষ্কার করে সেখানে প্রতিষ্ঠা করেন নন্দনকানন প্রাইমারি স্কুল এবং নন্দনকানন ফাইন আর্টস স্কুল যা পরে পরিণত হয় চাচুঁড়ি পুরুলিয়া হাইস্কুল-এ । প্রশাসনের সহায়তায় স্কুল চলতে থাকে কিন্তু বন্ধ হয়ে যায় ছবি আঁকার ক্লাস । সুলতান দুঃখ পেয়ে আবার নড়াইলে চলে আসেন । এবার এসে তিনি শিশুশিক্ষার প্রসারে কাজ শুরু করেন যা নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিলো । শেষ বয়সে তিনি নড়াইলে শিশুস্বর্গ এবং যশোরে চারুপীঠ নামে দুটি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন ।
শিল্পকর্মকে মধ্যে গ্রামীণ জীবন, কৃষক এবং কৃষিকাজ : এস এম সুলতান বাংলাদেশি প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী । প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী তার জীবনের মূল সুর-ছন্দ খুঁজে পেয়েছিলেন বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন, কৃষক এবং কৃষিকাজের মধ্যে । আবহমান বাংলার সেই ইতিহাস-ঐতিহ্য, বিপ্লব-সংগ্রাম, দ্রোহ-প্রতিবাদ এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকার ইতিহাস তার শিল্পকর্মকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে তিনি । তার ছবিতে গ্রামীণ জীবনের পরিপূর্ণতা, প্রাণপ্রাচুর্যের পাশাপাশি শ্রেণির দ্বন্দ্ব এবং গ্রামীণ অর্থনীতির হালও অনেকটা ফুটে উঠেছে । বিশ্বসভ্যতার কেন্দ্র হিসেবে গ্রামের মহিমা উঠে এসেছে এবং কৃষককে এই কেন্দ্রের রূপকার হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । তার রঙ তুলিতে দারিদ্র-ক্লিষ্ট ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো হয়েছেন পেশিবহুল । শ্রমজীবী মানুষগুলো হয়েছেন শক্তিশালী ও দৃঢ় মনোবলের অধিকারী ।
শিল্পকর্ম :
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী প্রকাশিত বইয়ের প্রচ্ছদে সুলতানের আঁকা বিখ্যাত চিত্রকর্ম "প্রথম বৃক্ষরোপন" পঞ্চাশের দশকের মধ্যভাগে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আধুনিক চিত্রকলার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছিলো। অনেক শিল্পীই সেখানে নব নব শৈলী, গড়ন এবং মিডিয়া নিয়ে উপস্থিত হচ্ছিলেন। কিন্তু এস এম সুলতান সেসময়ও নড়াইলে থেকে যান, অনেকটা লোকচক্ষুর অন্তরালে। এর কারণ অবশ্য গ্রামীণ জীবনের প্রতি তার চিরন্তন আকর্ষণ এবং সহমর্মিতা। তার শিল্পকর্মের স্বরূপটিও খুঁজে পাওয়া যায় এই গ্রামীণ জীবনযাত্রার প্রেক্ষাপটে। তার সে সময়কার ছবিগুলোতে গ্রামীণ কৃষকদের দেখা যায় পেশীবহুল এবং বলশালী হিসেবে। এর কারণ হিসেবে তার বক্তব্য হলো:
“ আমাদের দেশের মানুষ তো অনেক রুগ্ন, কৃষকায় । একেবারে কৃষক যে সেও খুব রোগা, তার গরু দুটো, বলদ দুটো -সেটাও রোগা...। আমার ছবিতে তাদের বলিষ্ঠ হওয়াটা মনের ব্যাপার । মন থেকে ওদের যেমনভাবে আমি ভালোবাসি যে আমাদের দেশের কৃষক সম্প্রদায়ইতো ব্রিটিশ সাম্রাজ্য গড়েছিলো । অর্থবিত্ত ওরাই তো যোগান দেয় । ...আর এই যত জমিদার রাজা মজারাজা আমাদের দেশের কম কেউ না । সবাই তো কৃষিনির্ভর একই জাতির ছেলে। আমার অতিকায় ছবিগুলোর কৃষকের অতিকায় অতিকায় দেহটা এই প্রশ্নই জাগায় যে, ওরা কৃশ কেন ? ওরা রু্গ্ন কেন- যারা আমাদের অন্ন যোগায়। ফসল ফলায় । ”
তার ছবিতে গ্রামীণ রমণীদের দেখা যায় সুডৌল ও সুঠাম গড়নে । নারীর মধ্যে উপস্থিত চিরাচরিত রূপলাবণ্যের সাথে তিনি শক্তির সম্মিলন ঘটিয়েছিলেন । একই সাথে তার এ ছবিগুলোতে গ্রামীণ প্রেক্ষাপটের শ্রেণী-দ্বন্দ্ব এবং গ্রামীণ অর্থনীতির কিছু ক্রূর বাস্তবতা উঠে এসেছে। তার এরকম দুটি বিখ্যাত ছবি হচ্ছে হত্যাযজ্ঞ (১৯৮৭) এবং চরদখল (১৯৮৮) ।
১৯৭৬ সালে তার আঁকা শিল্পকর্ম নিয়ে শিল্পকলা একাডেমীর প্রদর্শনীতে তার ছবির মহিমা নতুন করে প্রস্ফুটিত হয় । এই ছবিগুলোর মধ্যে দেখা যায় বিশ্বের কেন্দ্র হচ্ছে গ্রাম আর সেই কেন্দ্রের রূপকার কৃষককে আপন মহিমায় সেখানে অধিষ্ঠিত দেখা যায় । গ্রাম ও গ্রামের মানুষ ছিলো তার শিল্পকর্মের অনুপ্রেরণা আর উপকরণ ছিলো কৃষক এবং কৃষকের জীবন চেতনা । এস এম সুলতান তেলরঙ এবং জলরঙ-এ ছবি আঁকতেন৷ পাশাপাশি রেখাচিত্র আঁকতেন । আঁকার জন্য তিনি একেবারে সাধারণ কাগজ, রঙ এবং জটের ক্যানভাস ব্যবহার করেছেন । এজন্য তার অনেক ছবিরই রঙ নষ্ট হয়ে যাচ্ছিলো, যদিও এসবের প্রতি তিনি তেমন ভ্রূক্ষেপ করতেন না । নড়াইলে থাকাকালীন সময়ে তিনি অনেক ছবি কয়লা দিয়ে একেছিলেন তবে সঠিকভাবে সংরক্ষণের অভাবে সেগুলো নষ্ট হয়ে যায় ৷
চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে ‘একুশে পদক’, ১৯৮৪ সালে ‘রেসিডেন্ট আর্টিস্ট’ ১৯৮৬ সালে ‘বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা’ এবং ১৯৯৩ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ পেয়েছেন । এছাড়াও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার লাভ করেন । এস এম সুলতান ছিলেন একজন সুরসাধক এবং তিনি ভাল বাঁশিও বাজাতেন ।
সুলতান বলেন: “একেক জায়গায় এভাবে পড়ে আছে সব । শ্রীনগরে গেলাম । সেখানকার কাজও নেই । শ্রীনগরে থাকাকালীন পাকিস্তান হয়ে গেলো । '-এ সেখান থেকে ফিরে এলাম । কোনো জিনিসই তো সেখান থেকে আনতে পারিনি । একটা কনভয় এনে বর্ডারে ছেড়ে দিয়ে গেলো । পাকিস্তান বর্ডারে। আমার সমস্ত কাজগুলোই সেখানে রয়ে গেলো । দেশে দেশে ঘুরেছি। সেখানে এঁকেছি। আর সেখানেই রেখে চলে এসেছি । ”তবে এটুকু জানা গেছে যে, সেসময় তিনি প্রাকৃতিক নৈসর্গ্য এবং প্রতিকৃতি আঁকতেন। তার আঁকা ছবির প্রথম প্রদর্শনী হয়েছিলো ১৯৪৬ সালে সিমলায় ।


প্রদর্শনীসমূহ : সুলতানের জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর দেশে-বিদেশে তার বহু একক চিত্র প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছে । এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে তার ১৭টি একক প্রদর্শনী হয়েছিল এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে তার ১৭টি একক প্রদর্শনী হয়েছিলো । একক প্রদর্শনী :* ১৯৪৬ সিমলা, ভারত প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন কর্পূরীতলার মহারাজা । * ১৯৪৮ লাহোর, পাকিস্তান প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন ফিরোজ খান নূন । * ১৯৪৯ করাচী, পাকিস্তান ,প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন ফাতেমা জিন্নাহ । * ১৯৫০ ইনিস্টিটিউট অব এডুকেশন, নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
ওয়াইএমসিএ, বোস্টন, যুক্তরাষ্ট্র । শিকাগো উন্টারন্যাশনাল হাউজ, শিকাগো, যুক্তরাষ্ট্র ,মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়, মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র । * ১৯৭৬ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, ঢাকা, বাংলাদেশ । বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর সুলতানের প্রথম একক প্রদর্শনী । * ৫৬ হ্যামস্টিড, লন্ডন, যুক্তরাজ্য পাবলো পিকাসো, সালভাদর দালি, জন ব্রাক, পল ক্লী, জন মার্টিন প্রমুখের সাথে যৌথ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় । * ১৯৮১ এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী, ফুকুওকা মিউজিয়াম, জাপান । * ১৯৮৭ গ্যোটে ইনস্টিটিউট, ঢাকা, বাংলাদেশ । * ১৯৯৪ গ্যালারি টোন, ঢাকা, বাংলাদেশ যৌথ প্রদর্শনী ।
১৯৫৬ হ্যামস্টিড, লন্ডন, যুক্তরাজ্য পাবলো পিকাসো, সালভাদর দালি, জন ব্রাক, পল ক্লী, জন মার্টিন প্রমুখের সাথে যৌথ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় ।
* ১৯৭৫ জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, ঢাকা, বাংলাদেশ । * ১৯৭৬ জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, ঢাকা, বাংলাদেশ ।
পুরস্কার এবং সম্মাননা :- বিদেশ : তিনি ১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের কাছ থেকে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার গ্রহণ করেন । তিনি ১৯৫১ সালে নিউ ইয়র্কে, ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারে সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন৷ এছাড়াও ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে আন্তর্জাতিক জুরী কমিটির অন্যতম সদস্য মনোনীত হন ৷
বাংলাদেশ : ১৯৮২ একুশে পদক ,বাংলাদেশ সরকার, চারুকলায় অবদান এর জন্য । ১৯৮৫ , চারুশিল্পী সংসদ সম্মান, বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ কর্তৃক ।
১৯৯৩, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ।

0 Comments